চলতি মাসে ঢাকায় আসছে আইএমএফের দল – দৈনিক টারমিগান |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১ এপ্রিল ২০২৫, ১:৪১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

চলতি মাসে ঢাকায় আসছে আইএমএফের দল

চলমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বাংলাদেশ ২৩৯ কোটি ডলার কিস্তির অর্থ পাবে। অর্থছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পর্যালোচনা করতে আইএমএফের প্রতিনিধি দল চলতি এপ্রিল মাসে ঢাকায় আসবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর আইএমএফের বড় কোনো দলের ঢাকায় এটি দ্বিতীয় সফর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের একটি দল আগামী ৫ এপ্রিল ঢাকায় আসছে। দলটি ৬ এপ্রিল থেকে টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। এ সফরে আইএমএফের দলটির সঙ্গে অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে ১৭ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিং করবে সফররত আইএমএফের দল। দলটি প্রথম দিন ৬ এপ্রিল এবং শেষ দিন ১৭ এপ্রিল বৈঠক করবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।

বাংলাদেশকে আরো সাড়ে ৬৪ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা আইএমএফের
২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর তিনটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফের কাছ থেকে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে পেয়েছে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার পেয়েছে। তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। ঋণের অর্থছাড় বাকি আছে ২৩৯ কোটি ডলার। বিপত্তি দেখা দেয় চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে। যদিও সরকার আশা করছে আগামী জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

এদিকে সম্প্রতি অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেট সহায়তার জন্যই আইএমএফ ঋণ লাগবে। এ কারণেই বাংলাদেশ সরকার ও আইএমএফ যৌথভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত দুটি কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইএমএফের ঋণের দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পেতে বাংলাদেশের সামনে মোটাদাগে তিনটি বাধা রয়েছে। এগুলো হলো মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তি রাজস্ব আদায় ও এনবিআরের রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফকে জানানো হয়েছে, এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করার পদক্ষেপ ছাড়া বাকি দুটির বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।

তবে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হচ্ছে। যার কারণে হঠাৎ ডলারের দাম খুব বেশি বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ পদ্ধতিতে ডলারের দাম ১২২ টাকায় স্থিতিশীল আছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফুটবল খেলায় দুই গ্রামবাসীর দুই দফা সংঘর্ষে আহত ৮

বিএনপি কখনো বলেনি ‘আগে নির্বাচন পরে সংস্কার’ – মির্জা ফখরুল

রানীশংকৈলে ২৫ বিঘা জমির পাকা গম পুড়ে ছাই

মধুমতি ব্যাংকে চাকরির আবেদন ১০ এপ্রিল পর্যন্ত

মুন্সীগঞ্জের শেখরনগরে কালী পূজা ও মেলাকে ঘিরে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম

চলতি মাসে ঢাকায় আসছে আইএমএফের দল

তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দেশ

দলীয় নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়

ঈদের ছুটি কাটিয়ে ও আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু

জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

১০

বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচ জামাত অনুষ্ঠিত

১১

গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সুমাইয়ার পরিবারের খোঁজ নিলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

১২

মুন্সীগঞ্জে ১০ টাকায় গরুর মাংস পেল ৪২০টি পরিবার

১৩

শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

১৪

বিএনপি নেতারা এবারের ঈদ কে কোথায় করবেন

১৫

শেষ দিনে বাস-ট্রেন-লঞ্চে যে যেভাবে পারছে ছুটছেন বাড়ির পথে

১৬

খুলনায় মধ্যরাতে গোলাগুলির পর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশসহ ১১ জন গ্রেপ্তার, বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

১৭

ঈদের ‍ছুটিতে ওটিটিতে যা দেখবেন

১৮

স্বস্তিতে মানুষ বাড়ি ফিরেছে নাড়ির টানে

১৯

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় ছাত্রদল নেতাসহ আহত ৫

২০