ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মিকে ধর্ষণের পর হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ওই নেত্রীর ফেসবুকের ইনবক্সে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে একাধিক মেসেজ পাঠানো হয়। পাশাপাশি তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালও করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ওই নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় ও বরিশাল মহানগর নেতাদের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত ঘটনার সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেন উর্মি। এই পোস্ট দেওয়ার পরই ফেসবুকের কমেন্ট ও ইনবক্সে তাকে ব্যক্তিগতভাবে ক্রমাগত আক্রমণ করা হচ্ছে।
তবে শুক্রবার সেই আক্রমণ একেবারে মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এদিন তার পোস্টের কমেন্টে ‘সজীব সরকার’ ও ‘মোহন হোসেন রিজওয়ান’ নামের দুটি আইডি থেকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করার পাশাপাশি ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়।
উর্মির দাবি, ‘সজীব সরদার’ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনসিপি নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনভায়রনমেন্ট ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের ছাত্র। যেটি তার ফেসবুক প্রোফাইলেও উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োর বরাত দিয়ে মোহন হোসেন রিজনকেও এনসিপির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন উর্মি।
এই ঘটনার সমালোচনা করে ছাত্রদল নেত্রী আরও একটি পোস্ট দেন। সেখানে পোস্টে কয়েকটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন উর্মি। তিনি লিখেছেন, ‘এই হল NCP আপনাদের দেশের জন্য কাজ করা ও নতুন বন্দোবস্ত!! প্রোফাইল লক করে মানুষকে গালি দিচ্ছেন বাহ্। এই আপনারা দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আপনাদের হাতে নাকি দেশ ও এ দেশের নারী-শিশু, স্বাধীন মত প্রকাশ সেইফ। এই তার নমুনা!’
এসব ঘটনার স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে ফেসবুকে আবার একটি পোস্ট দেন ছাত্রদলের এই নেতা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সজীব সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উর্মি আপু এনসিপির হাসনাত ও সারজিস ভাইয়ের সমালোচনা করে অনেক আজেবাজে কথা লিখেছে। এটি দেখে আমার ভীষণ খারাপ লেগেছে ও রাগ হয়েছে। পরে আমি সেই পোস্ট নিয়ে কমেন্ট করেছি। পরে বুঝতে পারছি এটা করা ঠিক হয়নি, পরে আমি সেই কমেন্ট ডিলিট করেছি।
তবে এনসিপির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান সজীব। এছাড়া মোহন হোসেন রিজনের ফেসবুকের ইনবক্সে মেসেজ পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে উর্মির দাবি, তার পোস্টের পরই ইনবক্সে নানা রকম হুমকি আসতে থাকে। পাশাপাশি এনসিপি নেতাদের সমালোচনা করে আগের পোস্টটি সরিয়ে নিতে বলা হয়। এরমধ্যে ‘রাফি আহমেদ’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে ইনবক্সে ‘রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে টানা তিন দিন ধর্ষণের পর নগ্ন ডেডবডি ৩০০ ফিট রাস্তায় ফেলে রাখার’ হুমকি দেওয়া হয়।
এই হুমকির স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে ফেসবুকে আবারও একটি পোস্ট দেন ছাত্রদলের এই নেতা। যদিও ফেসবুকে সার্চ করে রাফি আহমেদের আইডিটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেত্রী উর্মি কালবেলাকে বলেন, নারীরা সব সময়ই অনলাইনে-অফলাইনে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারটি অত্যন্ত জঘন্য ও সীমা ছাড়িয়েছে। ছাত্রলীগ আমার ওপর যে নিমর্মতা চালিয়েছে, সেটিকে জাস্টিফাই করে এবং সেই ঘটনাকে আরও নোংরা করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার বক্তব্যের সঙ্গে তারা একমত না-ই হতে পারে। তাদের ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক সমালোচনা রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করা উচিত। রাজনৈতিক চর্চায় আমরা এ ধরনের আচরণ কামনা করি না। এতে মানুষ রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা হারাবে, সম্মান হারাবে; মানুষ রাজনীতি বিমুখ হয়ে যাবে।’