প্রেমের সম্পর্ককে বিয়েতে পরিণত করার জন্য গত বছর ২০২৪ সালে ৫সেপ্টেম্বর তাহমিনা আক্তার ও রিয়াজ পালিয়ে বিয়ে করেন।বিয়ের আট মাস পরে গত বুধবার ২ এপ্রিল ২০২৫ মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন কনের মা মাফিয়া আক্তার। ঘটনা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায়
এদিকে, বর রিয়াজ সরকারের (২৫) দাবি অপহরন নয়, ভালোবেসে বিয়ে করেছেন তার মেয়ে তাহমিনা আক্তার ( ২২) তানজিনাকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ( ৩ এপ্রিল ) অপহরণের অভিযোগ মামলার বিষয়টি গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আনোয়ার আলম আজাদ নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, মামলা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রিয়াজ সরকারের পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভূগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে,গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ সরকার(২৫)। একই ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের জসীম উদ্দিনের কন্যা তাহমিনা আক্তার তানজিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্ক বিয়েতে পরিণত করার জন্য গত বছর ২০২৪ সালে ৫সেপ্টেম্বর তাহমিনা আক্তার ও রিয়াজ পালিয়ে বিয়ে করেন তারা । এ ঘটনায় গেল বুধবার ২ এপ্রিল গজারিয়া থানায় মেয়ের মা মাফিয়া আক্তার বাদী হয়ে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেছে। মামলার পর থেকে পুলিশের ভয়ে শুধু রিয়াজই নয় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন পরিবারের সব সদস্য।
ছেলের মা রিনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোন বাবা মা চায়না তাদের সন্তান পালিয়ে বিয়ে করুক। কিন্তু তারপরও এমন ঘটনা প্রায় ঘটে । কোন বাবা-মা’কি ছেলেকে মেয়ে অপহরণের জন্য সহযোগিতা করে? সবকিছু জানার পরও মেয়ের পরিবার আমাদের নামে মামলা করেছে। এই বয়সে আমাদের পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। সন্তান জন্ম দিয়ে মনে হয় পাপ করেছিলাম। এজন্য এমন শাস্তি ভোগ করছি।
রিয়াজ সরকার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি তাহমিনা আক্তার তানজিনা কে অপহরণ করিনি। ভালোবেসে ওকে বিয়ে করেছি।
তাহমিনা আক্তার তানজিনা ( ২২) জানান, আমাকে কেউ অপহরণের চেষ্টাও করেনি। স্বেচ্ছায় তিনি পালিয়ে এসেছেন। পরিবারের অমতে বিয়ে মেনে নিতে না পেরে তার পরিবার তার স্বামী রিয়াজের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা প্রত্যাহার চান তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে তাহমিনা আক্তার তানজিনার পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার আলম আজাদ জানান, তাহমিনা আক্তার তানজিনা নামে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। ভিকটিম উদ্ধারের পর তদন্ত করে বোঝা যাবে আসল ঘটনা।
মন্তব্য করুন